ইন্টারনেট প্রোটোকলের (আইপি) সর্বশেষতম সংস্করণ আইপিভি সিক্স। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি ডিভাইসের নিজস্ব পরিচয় সনাক্তের প্রত্যাশিত সুবিধা নিয়ে ১৯৯৮ সালে এর উদ্ভব ঘটলেও ২০১৭ এটি সার্বজনীন প্রটোকল হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে বিডিনগের (বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপ) একাদশ সম্মেলনে সংস্থাটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুমন আহমেদ সাবির বাংলাদেশের আইপিভি ৬ এর করুণ অবস্থান ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
গত ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারনেট অপারেশনাল টেকনোলজি’কর্মশালায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা আইপিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন)- ৬ এ খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। বাংলাদেশে আইপিভি-৬ ব্যবহারের হার মাত্র ০.১ শতাংশ। ভারতে এই হার ৬০ শতাংশ। আগামী ৬ মাসে এই হার আমরা ২০ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই।’
তবে সেই ঘোষণার দেড় বছর পরও আইপিভি ৬ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশে আইপিভি-৬ ব্যবহারের হার ৩ শতাংশের নিচে। অবশ্য, বেসিক ওয়ার্ক শেষে এখন কাজ দ্রুত এগোবে বলে আশাবাদী সুমন আহমেদ সাবির।
এমন পরিস্থিতিতে এবার লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের নেটওয়ার্কে আইপিভি সিক্স ডেপ্লয়মেন্ট করার দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিটিআরসি'র নির্দেশনা বাস্তবায়ণে লোকাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ওনার্স এসোসিয়েশন (এল্বিনোয়া), বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লোকাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ওনার্স এসোসিয়েশন (এল্বিনোয়া), বাংলাদেশের সভাপতি ফুয়াদ মুহাম্মদ শরফুদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) -এর সভাপতি মোঃ ইমদাদুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইএসপিএবি সভাপতি আইপিভি সিক্স বিষয়ে প্রকৌশলীদের কারিগরি ভাবে দক্ষ করে তুলতে অ্যপনিকের সহায়তা কামনা করেন। একইসঙ্গে প্রান্তিক সেবা গ্রহিতা পর্যায়ে আইপিভি ৬ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত রাউটারসহ অন্যান্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইসগুলো যেনো আইপিভি ৬ সমর্থিত হয় সে বিষয়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো যেনো দেশে আইভি৬ এর নিচের কোনো ডিভাইস আমদানি হতে না পারে যে জন্য কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান ইমদাদুল হক।

সেমিনারের পর ডিজিবাংলাকে তিনি বলেন, আইপভি ৬ ব্যবহারে আইএসপিএবি সব পর্যায়ে অ্যাওয়ার্নেস বিল্ডআপ ও নো হাউ বাড়াদতে কাজ করছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে কর্মশালা করেছি। আবার আগামী অক্টোবরে এ নিয়ে বড় একটি আয়োজন থাকছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা ল্যাব স্থাপন করেছি। এখন দ্রুত এই কাজ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছি।
এদিকে কর্মশালায় প্রধান বক্তা এপনিক (এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার) কার্য নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ফাইবার অ্যাট হোম -এর সিটিও সুমন আহমেদ সাবির লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের নেটওয়ার্কে আইপিভি সিক্স স্থাপন করা কেন জরুরী সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। একইসঙ্গে আইপিভি সিক্স স্থাপন করার পূর্বে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন ধরনের বিষয় লক্ষ্য রেখে কি ধরনের পরিকল্পনা নেয়া উচিত তাও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়াও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) -এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূইয়া, সাইবার ক্যাফে ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) -এর সভাপতি এ এম কামাল উদ্দিন আহমেদ সেলিম এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট সমিতি (বিআইবিএস_ -এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
লোকাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ওনার্স এসোসিয়েশন (এল্বিনোয়া), বাংলাদেশের সভাপতি ফুয়াদ মুহাম্মদ শরফুদ্দিন বলেন, লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো সেবা প্রদান করতে গিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি স্থাপনে বিভিন্ন রকমের বিভ্রান্তি দূরকরা ও আত্মবিশ্বাস বিশ্বাস লোকাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ওনার্স এসোসিয়েশন (এল্বিনোয়া) প্রতিবছর তার সদস্যদের নিয়ে সেবা প্রদানের নতুন নতুন প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। যার ধারাবাহিকতায় এবছর আইপিভি সিক্স স্থাপনে সদসদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং বিভিন্ন রকমের বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে।
রাজধানীর গুলশানস্থ একটি হোটেলে শনিবার, (৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী কর্মশালায় রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে লাস্ট মাইল ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মালিক ও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়াররা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটির সহযোগী ছিল ফাইবার এট হোম লিঃ , অ্যাপেল কমিউনিকেশন লিঃ, ভারগো কমিউনিকেশন, বিডি হাব লিঃ আর্থ টেলিকমিউনিকেশন প্রাঃ লিঃ মাইস্ট্রো, ইকোম